ডিজিটাল আইলেন্ড মহেশখালী

মহেশখালী (Maheshkhali)
শহুরে মানুষগুলো গ্রামকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায়। চায় যানজট মুক্ত খোলামেলা এক পরিবেশ। আর ঠিক এরকম একটি সুন্দর ও মনোরম পরিবেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মহেশখালী। নামটা অনেকেই হয়তো ছবিতে এবং গানে শুনেছেন তাই না? আমরা মহেশখালীর সৌন্দর্য নিজ চোখে দেখি অথবা না দেখি, কিন্তু বহু যুগ ধরে গানে গানে ঠিকই শুনে আসছি।
মহেশখালী ফিরে এলাম “মহেশখালীর বাঁকে”……। বাংলা ছবির নাম মহেশখালীর বাঁক। ছবির থেকেও হাজার গুন্ বেশি সুন্দর এই গ্রামটি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আরেক নাম মহেশখালী।
কি ভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো মহেশখালী ?
১৫৫৯ সালে প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসের কারণে মূল ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ছোট এই দ্বীপটি। প্রাচীন ধারণা মতে, প্রায় ২০০ বছর পূর্বে বৌদ্ধ সেন মহেশ্বরের নামানুসারে স্থানটির নামকরণ হয় মহেশখালী। আবার কেউ কেউ বলেন, শিবের অপর নাম মহেশ অনুসারে জায়গাটির নামকরণ করা হয় মহেশখালী।
অন্য এক ধারণা মতে, কোনো এক কালে এক কৃষক বনের ভিতর একটি শিলা বিগ্রহ খুঁজে পান। স্বপ্নযোগে তিনি জানতে পারেন এটি মহেশ নামের এক হিন্দু দেবতার বিগ্রহ। পরে তিনি সেখানে একটি মন্দির নির্মাণ করেন এবং সেখানেই বিগ্রহটি স্থাপন করেন।
মহেশখালীর অবস্থান
কক্সবাজার জেলার অন্যতম একটি দ্বীপ মহেশখালী। কক্সবাজার থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। ১৮৫৪ সালে বাংলাদেশের বুকে প্রতিষ্ঠিত হয় এই গ্রামটি। এর ঘনত্ব প্রায় ৮৩০ কিলোমিটার। আর ছোট এই গ্রামটির মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩২১২১৮ জন। এর আয়তন প্রায় ৩৬২ বর্গ কিলোমিটার।
মহেশখালীর পশ্চিমে কুতুবদিয়া দ্বীপ ও বঙ্গোপসাগর,পূর্বে চকরিয়া ও কক্সবাজার সদর উপজেলা, দক্ষিণে আছে কক্সবাজার সদর ও বঙ্গোপসাগর এবং উত্তরে চকরিয়া উপজেলা দ্বারা বেষ্টিত।
মহেশখালীর আশেপাশে আরো কিছু সৌন্দর্যমন্ডিত স্থান
মহেশখালীতে আছে নানা অজানা অনেক সৌন্দর্যমন্ডিত স্থান। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থানগুলো হলো:
১.সোনাদিয়া দ্বীপ
২.আদিনাথ মন্দির ও আদিনাথ মেলা
৩.বৌদ্ধ কেয়াং বা মন্দির
৪.রাখাইন পাড়া
৫.স্বর্ণ মন্দির
৬.মৈনাক পর্বত
বলা চলে বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ হলো মহেশখালী। বিশাল এ দ্বীপের মৈনাক পর্বতের উপর অবস্থিত আদিনাথ মন্দির। দ্বীপের কারুকাজ এখানকার আগত পর্যটকদের ও দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে তোলে।
প্রতি বছরের ফাল্গুন মাসে আয়োজন করা হয় আদিনাথ মেলা। আরও আছে বেশ কিছু বৌদ্ধ বিহার,জলাবন ও নাম না জানা নানা প্রজাতির বহু পশুপাখি। শীতকালে এখানে এসে ভিড় হয় বহু অতিথি পাখি। পাখির কিচিরমিচির ধ্বনি কানে বাজে প্রতিটি মুহূর্ত।
শীতে ঘন শুভ্র কুয়াশায় ঢাকা পরে যায় মন্দিরের চারপাশ গুলো। দেখতে কি এক অপরূপ রূপে সজ্জিত! মনে হয় কে যেন সাদা চাদরে পুরো পৃথিবী ঢেকে দিয়েছে। দ্বীপের পাশেই বিশাল ঝাউবাগান এর সমাহার ও চরপাড়া বিচ। চাইলেই ঘুরে আসতে পারেন অপরূপ সৌন্দর্যের এই স্থানটিতে।
দেখলে মন ও প্রাণ ব্যাকুল হয়ে পরবে। হাটঁতে হাটঁতে পথেই দেখা মিলবে পান গাছের সারি বাঁধানো গাছের বাগান ও লবণের মাঠ। মহেশখালীর পানের সুনাম সারা বাংলাদেশ ব্যাপী।
মহেশখালীতে আছে ছোট ছোট তিনটি দ্বীপ। সমষ্টিময় এই দ্বীপগুলো দেখার জন্যই প্রতি বছর দর্শনার্থীদের ভিড় জমে এখানে।
মহেশখালীর জনপ্রিয় খাবার
বাস থেকে নামার পরেই চোখে পরবে নজরকাড়া সব ছোট বড় হোটেলগুলো। যেখানে বাঙালিয়ানার স্বাদ পাওয়া যায়।
উপজেলা কক্সবাজার জেলার একটি দ্বীপ। কক্সবাজার থেকে এটি মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। জনশ্রুতি আছে ১৫৫৯ সালের প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ফলে মূল ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এই দ্বীপের সৃষ্টি হয়। বৌদ্ধ সেন মহেশ্বর থেকেই প্রায় ২০০ বছর আগে এই জায়গায়র নামকরণ হয়। যা মহেশখালী দ্বীপ নামেও পরিচিত। মহেশখালী উপজেলায় সোনাদিয়া, মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা নামে তিনটি ছোট ছোট দ্বীপ রয়েছে। পান, মাছ, শুঁটকী, চিংড়ি, লবণ এবং মুক্তার উৎপাদনে সমগ্র বাংলাদেশে এই উপজেলার সুনাম রয়েছে। কক্সবাজার থেকে ৪-৫ ঘন্টা সময় ব্যায় করলেই মহেশখালী দ্বীপ থেকে ঘুরে আসতে পারবেন। "যদি সুন্দর একটা মুখ পাইতাম.......যদি সুন্দর একটা মন পাইতাম! মহেশখালীর পান খিলি তারে বানাই খাওয়াইতাম"গানটির সাথে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। আসলে মহেশখালী মূলত পানের জন্য বাংলাদেশে সুবিখ্যাত। তবে পানের সাথে সাথে মহেশখালীর সৌন্দর্যও কিন্তু কোনো অংশে কম না।
মহেশখালীর সৌন্দর্য চোখে না দেখলে বোঝাই যেতো না যে বাংলাদেশ এতটা সুন্দর!!! আর তাই আজ আমরা আলোচলা করবো মহেশখালীর সৌন্দর্যমন্ডিত প্রাকৃতিক লীলাভূমির রূপ বৈচিত্র্যকে নিয়ে। তুলে ধরবো বাংলাদেশের বুকে চোখ ধাঁধানো সব অপার সৌন্দর্য।
আশেপাশের হোটেলগুলোতে মিক্সড ভর্তা, লইট্যা ফ্রাই, কোরাল, ভেটকি, গরুর মাংস,হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি উল্লেখযোগ্য।
মূলত মাছ,পান, শুঁটকি, চিংড়ি, লবন ও মুক্তা উৎপাদনে মহেশখালীর সুনাম পুরো বাংলাদেশ জুড়ে। মহেশখালীর মিষ্টি মধুর ডাব আপনার ক্লান্ত মনের তৃষ্ণা মেটাবে। আর এখানকার ডাবগুলোর দামও অনেক কম। এতো কম মূল্যে আপনি আর কোথাও এতো সুমিষ্ট ডাব খেতে পাবেন না।
মহেশখালীর প্রধান আকর্ষণ
স্বল্প জনবহুল হলেও মহেশখালীর সবাই খুব কর্মব্যস্ততায় জীবন অতিবাহিত করে। উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত দ্বীপটির দক্ষিণ দিকটায় বড় বাজার, উপজেলা কমপ্লেক্স, স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স, কলেজ-হয় স্কুল ইত্যাদি।
মহেশখালীর প্রথম ও প্রধান আকর্ষণবিন্দু হচ্ছে সোনাদিয়া দ্বীপ। সম্পূর্ণ মহেশখালীতে আছে ছোট ছোট টিলা। আর এই টিলাগুলো থেকে বন বিভাগের ভিতর তৈরী করা হয় সেগুন-গর্জনের বিশাল বনভূমি। এর দুপাশে জলাভূমি ও পেরাবন দিয়ে বিস্তৃত।
সোনাদিয়া দ্বীপ ও আদিনাথ মন্দির সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন
বনভূমির সাগর-সৈকত ছাড়াও অন্যতম দুটি প্রধান আকর্ষণ হলো আদিনাথ মন্দির এবং বৌদ্ধ মন্দির। এর দৃষ্টিনন্দন কারুকার্যসমুহ দর্শনার্থীদের মনে কৌতূহল বাড়িয়ে দেয়।
আদিনাথ পর্বতের পাশেই হচ্ছে মৈনাক পর্বত। আদিনাথ পর্বতের প্রবেশ পথে উপজাতিরা দারুন সব বাহারি পণ্যের পসরা নিয়ে বসে থাকে। দেশ বিদেশ থেকে আগত এই পর্যটকরা এখানে আসলে দৃষ্টিনন্দন সমাহার দেখলে কিছু না কিছু কিনে যায় তারা।
মহেশখালী ভ্রমণ আপনার জীবনকে স্মরণীয় করে রাখবে। এখানে গেলেই দেখতে পাওয়া যায় দেশ বিদেশ থেকে আগত বিভিন্ন অতিথি পাখি। মহেশখালী ভ্রমণের প্রধান দৃষ্টিগোচর স্থান হচ্ছে সোনাদিয়া দ্বীপ। আসুন জেনে নেই এ দ্বীপের সব অজানা তথ্য সমূহ।
ভাবছেন কিভাবে যাবেন?
খুব যেয়ে নিজ চোখে দেখে আসতে মন চাইছে তাই না? তাহলে চলুন না কর্মব্যস্ততা এই জীবনে একটু ফাঁক পেলেই ঘুরে আসি মহেশখালী ও সোনাদিয়া দ্বীপ। পৃথিবীর সৌন্দর্যকে জেনে আসি আরও কাছ থেকে।
ভাবছেন কিভাবে যাবেন? আপনি চাইলে খুব কম খরচে ও কম সময়ে ঘুরে আসতে পারেন।
বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী যাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে কক্সবাজার থেকে। ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে সরাসরি বাস ছেড়ে যায়। বাস গুলো হলো
সৌদিয়া,
এস আলম,
গ্রীন লাইন,
হানিফ এনারপ্রাইজ,
শ্যামলী পরিবন,
সোহাগ পরিবহন,
মর্ডান লাইন,
শাহ বাহাদুর ইত্যাদি
যেকোনো বাসে করে সরাসরি চলে যেতে পারেন কক্সবাজার কলাতলীর সুগন্ধি পয়েন্ট। ভাড়া ৯০০ টাকা নিবে জন প্রতি। কক্সবাজার থেকে মহেশখালী ৬ নং ঘটে যাবেন লোকাল ট্রলার অথবা স্প্রিডবোটে। ভাড়া জন প্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা নিবে।
অথবা কলাতলী সুগন্ধি পয়েন্ট থেকে অটোতে মাত্র ১০ টাকা ভাড়ায় চোলে যেতে পারেন বিআইডব্লিউটিএ এর ৬ নং জেটি ঘাটে। ও হ্যা অবশ্যই জেটির টং থেকে মিষ্টি সুগন্ধি মহেশখালীর বিখ্যাত পান খেতে ভুলবেন না যেন! সেখান থেকে ঘাটের টোল যাবেন ৫ টাকা দিয়ে। এভাবেই চলে যেতে পারেন স্বপ্নপুরী এই মহেশখালীতে। ঘুরে দেখে আসতে পারেন অদেখা সৌন্দর্য গুলো।
কক্সবাজার জেলার আরো কিছু অসম্ভব সুন্দর জায়গা সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন:
আমাদের পোস্টটি যদি কিছুটা হলেও ভালো লাগে তাহলে অবস্যই পোস্টটি শেয়ার করবেন এবং অন্যদের জানার সুযোগ করে দিন।
বি.দ্র: আপনার পছন্দের জায়গাগুলো যেখানে আপনি এখনও ভ্রমন করেন নি তবে সেখানে যেতে চান! এরকম নিজের সব পছন্দের স্থানগুলোর নাম লিখে ও কিভাবে য
কি দেখবেন
মহেশখালি বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়িয়া দ্বীপ। এ দ্বীপের মৈনাক পর্বতের উপরে রয়েছে আদিনাথ মন্দির। এ দ্বীপের কারুকার্য এখানে আসা দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে এছাড়াও বছরের ফাল্গুন মাসে এখানে আদিনাথ মেলা অনুষ্টিত হয়। এখানে রয়েছে বেশ কিছু বোদ্ধ বিহার, জলাবন ও নানা প্রজাতির পশুপাখি। মহেশখালীতে আছে আদিনাথ মন্দির, রাখাইন পাড়া ও স্বর্ণ মন্দির। চাইলে ঝাউবাগান ও চরপাড়া বীচ থেকে ঘুরে আসতে পারেন। চলতি পথেই দেখতে পাবেন পান গাছের বাগান আর লবণের মাঠ। মহেশখালীর পানের সুনাম সারা বাংলাদেশ ব্যাপী তাই এখানে এলে অবশ্যই মনে করে পান খাবেন।
কিভাবে যাবেন
মহেশখালীতে যাওয়ার জন্য পথ দুটি আছে। একটিতে আপনাকে প্রথমে কক্সবাজার আসতে হবে এবং এই পথটিই কক্সবাজারগামী পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক। ঢাকা থেকে কক্সবাজার সড়ক, রেল এবং আকাশপথে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী বাসগুলোর মধ্যে সৗদিয়া, এস আলম মার্সিডিজ বেঞ্জ, গ্রিন লাইন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, এস.আলম পরিবহন, মডার্ন লাইন, শাহ্ বাহাদুর, ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। শ্রেণী ভেদে বাসগুলোর প্রতি সীটের ভাড়া ৯০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকার পর্যন্ত।
ঢাকা থেকে ট্রেনে কক্সবাজার ভ্রমণ করতে চাইলে কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলস্টেশান হতে সোনার বাংলা, সুবর্ন এক্সপ্রেস, তূর্ণা-নিশীথা, মহানগর প্রভাতী/গোধূলী, চট্রগ্রাম মেইলে যাত্রা করতে পারেন। এছাড়া বাংলাদেশ বিমান, নভোএয়ার, ইউএস বাংলা এবং রিজেন্ট এয়ারওয়েজের বেশকিছু বিমান ঢাকা থেকে কক্সবাজার ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে।
কক্সজবাজার শহরের যেকোন জায়গা থেকে মহেশখালী যাবার জেটিতে (৬ নং ঘাট) চলে আসুন। তারপর লোকাল ট্রলার বা স্পীড বোটে ৭০-৮০ টাকা ভাড়ায় মহেশখালি আসবেন। চাইলে স্পিডবোট রিজার্ভ নিতে পারবেন। মহেশখালি এসে সবকিছু ঘুরে দেখতে এক বা দুজন হলে একটা রিক্সা (ভাড়া ১৫০-১৭০ টাকা) অথবা ৫-৭ জন হলে অটো/ইজিবাইক ভাড়া (৩০০-৩৫০ টাকা) করে নিবেন। তবে ভালো করে দরদাম করে নিবেন, না হয় ভোগান্তিতে পরতে পারেন।
আর অন্য পথে যেতে আপনাকে চট্টগ্রাম থেকে সড়ক পথে চকরিয়া এসে বদরখালি হয়ে মহেশখালি আসতে হবে। এ পথে মহেশখালি আসতে দেড় ঘন্টা সময় লাগে। চকরিয়া হয়ে যাবার পথে “মহেশখালী জেটি” চোঁখে পরবে।
কোথায় থাকবেন
অল্প দূরত্ব হওয়ায় মহেশখালী থেকে সহজেই ফিরে আসা যায়। এছাড়া মহেশখালীতে থাকার তেমন ব্যবস্থা নেই তাই রাত্রি যাপনের জন্য ফিরে আসুন কক্সবাজার। অফ সিজনে বুকিং না দিয়ে গেলেও হোটেলে রুম পাবার নিশ্চয়তা থাকে কিন্তু ডিসেম্বরের ১৫ থেকে জানুয়ারী ১৫ তারিখ পর্যন্ত অগ্রিম বুকিং দিয়ে যাওয়াই শ্রেয়। এসময় অগ্রীম বুকিং ছাড়া কক্সবাজার ভ্রমণ করা বোকামি। সাধারণত দামানুসারে কক্সবাজার হোটেল/মোটেল/রিসোর্ট গুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা যায় ।
৬০০০ থেকে ১০.০০০ টাকাঃ মারমেইড বিচ রিসোর্ট, সায়মন বিচ রিসোর্ট, ওশেন প্যারাডাইজ, লং বীচ, কক্স টুডে, হেরিটেজ ইত্যাদি।
৩,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকাঃ সী প্যালেস, সী গাল, কোরাল রীফ, নিটোল রিসোর্ট, আইল্যান্ডিয়া, বীচ ভিউ, সী ক্রাউন, ইউনি রিসোর্ট ইত্যাদি।
৮০০ থেকে ৩,০০০ টাকাঃ উর্মি গেস্ট হাউজ, কোরাল রীফ, ইকরা বিচ রিসোর্ট, অভিসার, মিডিয়া ইন, কল্লোল, হানিমুন রিসোর্ট, নীলিমা রিসোর্ট ইত্যাদি।
তবে উপরে উল্লেখিত মূল্যের চেয়েও কমে হোটেল পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে একটু আগে থেকেই খোঁজ খবর নিতে হয়। অফসিজনে হোটেলের ভাড়া সাধারণত অর্ধেকেরও কম থাকে। সময় থাকলে কক্সবাজার নেমেই একটু দরদাম করে হোটেল খুঁজে নিলেই ভালো। হোটেল খোঁজার ক্ষেত্রে রিকশাওয়ালা বা সিএনজিওয়ালার পরামর্শে নেয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে হোটেলের ফেইসবুক পেইজ বা ওয়েবাসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে।
আপনি যদি আপনার পরিবার নিয়ে একটু স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে চান তবে ফ্ল্যাট ভাড়া নিতে পারেন। এসি/নন এসির ২/৩/৪ বেড রুম ও রান্নাঘর বিশিষ্ট ফ্ল্যাটের প্রতিদিন ভাড়া হতে পারে ২,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা। এছাড়াও নিজের সাধ্য ও পছন্দমত একটা ঠিকানা পেতে আপনাকে তো একটু খোঁজাখুঁজি করতে হতেই পারে।
কি খাবেন
অল্প দূরত্ব হওয়ায় মহেশখালী থেকে সহজেই ফিরে আসা যায়। আর তাই সাময়িক ক্ষুদা নিবারণের জন্য দ্বীপেই হালকা খাবার খেয়ে নিতে পারেন। কিংবা ফিরে এসে খেতে পারেন কক্সবাজারে। কক্সবাজারে সব ধরণ ও মানের রেস্টুরেন্ট আছে। মধ্যম মানের বাজেট রেস্টুরেন্টের মধ্যে রোদেলা, ঝাউবন, ধানসিঁড়ি, পৌষি, নিরিবিলি ইত্যাদি উল্লেখ করার মত। সিজন অনুসারে অন্য অনেক কিছুর মত এখানে খাবারের দামও কম/বেশী হতে পারে। ভাত: ২০-৪০ টাকা, মিক্সড ভর্তা: ৭৫/১৫০/৩০০টাকা (৮-১০ আইটেম), লইট্যা ফ্রাই: ১০০-১২০টাকা (প্রতি প্লেট ৬-১০ টুকরা), কোরাল/ভেটকি: ১৫০ টাকা (প্রতি পিচ), গরু: ১৫০-২০০ টাকা (২ জন শেয়ার করতে পারবেন), রপচাঁদা ফ্রাই/রান্না: ৩০০-৪০০ টাকা (বড়, ২জন খাওয়ার মত), ডাল: ৩০-৬০ টাকা। এছাড়াও লাবনী পয়েন্ট সংলগ্ন হান্ডি রেস্তারা থেকে ২০০-২৫০ টাকায় হায়দ্রাবাদী বিরাণী চেখে দেখতে পারেন। আর কেওএফসি তো আছেই।
- মোটেল উপল, লাবনী রোড, কক্সবাজার ০৩৪১-৬৪২৫৮, ৬৪২৪৬, ৬৪২৫৮, ৬৪২৪৬
- মোটেল প্রবাল, ০৩৪১-৬৩২১১, ৬২৬৩৫, ৬৩২১১, ৬২৬৩৫
- মোটেল লাবনী, লাবনী পয়েন্ট রোড - ০৩৪১-৬৪৭০৩
- নীলিমা বিচ রিসোর্ট, সুগন্ধা বীচ, কক্সবাজার - 01710.390251
- মোটেল শৈবাল, মোটেল রোড, কক্সবাজার ফোন - ০৩৪১-৬৩২৭৪
- সীগাল হোটেল মোটেল জোন, সী বীচ রোড, কক্সবাজার ফোন নং-০৩৪১-৬২৪৮০-৯১
- সী প্যালেস, কলাতলী ০৩৪১ ৬৩৬৯২, ০৩৪১ ৬৩৭৯২, ০৩৪১ ৬৩৭৯৪, ০৩৪১ ৬৩৮২৬
- হোটেল কক্স টু ডে ০২-৯৮৮২৬৩৮, ০২-৯৮৮২৬৮৫(ঢাকা অফিস)
- হোটেল ওসান প্যরাডাইস লিঃ কলাতলি, -01938.8846753
- হোটেল লং বীচ ০৩৪১-৫১৮৪৩-৬
- লাক্সারী কটেজ সাগরিকা ফোন - ০৩৪১-৬৩২৭৪
- হোটেল অভিসার (প্রাঃ) লিঃ, সীবীচ রোড ০৩৪১-৬৩০৬১
- প্যনোয়া, লালদিঘীর পূর্ব পাড় ০৩৪১-৬৩২৮২,৬৪৩৮২
- হোটেল সীবীচ, কলাতলী ০৩৪১-৬৪১৫৬,৬৪৫৫০
- হোটেল সী ওয়াল্ড, কলাতলী রোড, কক্সবাজার ০৩৪১-৫১৬২৫
- পালকি, লাদিঘীর পূর্ব পাড় ০৩৪১-৬৩৫৯৭,৬৩৬৬৭, ৬৩৫৯৭, ৬৩৬৬৭
- এম এস গেস্ট কেয়ার, থানার পিছনে ০৩৪১-৬৩৯৩০,৬৩০৮৯; ৬৩৯৩০,৬৩০৮৯
- মোহাম্মদিয়া গেষ্ট হাউস, কলাতলী , কক্সবাজার ০৩৪১-৬২৬২৯; ০৩৪১-৬২৬২৯
- রেনেসা গ্রান্ড হোটেল, ঝাউতলা ০৩৪১-৬৪৭১২, ৬৪৭০৯
- হোটেল সী ক্রাউন ০৩৪১-৬৪৭৯৫, ০৩৪১-৬৪৪৭৪, 01817.089420
- নিলিমা রিসোর্ট -01732.075750
- সিলভার সাইন, মোটেল রোড ৬৪৬১০,৬৪৮৯৩-৯৪,৬৪৮৯৭
- হোটেল মিডিয়া ইন্টার ন্যাশনাল, সী বিচ রোড ৬২৮৮১-৮৫
- সী- কুইন, ঝাউতলা ০৩৪১-৬৩৭৮৯,০৩৪১ ৬৩৮৭৮, ০৩৪১-৬৪৬১৭-১৮
- সী ইন , হোটেল মোটেল জোন, কলাতলী ০৩৪১-৬২৭২০
- হোটেল বে বীচ , পুরাতন ঝিনুক মার্কেট ০৩৪১-৬৩৮৩০, ০৩৪১-৬২৭২৩
- সী ভিউ, হ্যাচারী রোড, ঝাউতলা ০৩৪১-৬৩৫১৮, ০৩৪১-৬৪৪৯১
- হোটেল কল্লোল, মোটেল রোড, ০৩৪১-৬৪৭৪৮
- হোটেল ডি ওশেনিয়া, কলাতলী - 01785.050999
- লেগুনা বিচ, কলাতলি - 01710 848912
- ইকরা বিচ, কলাতলী - 01732 216677
- অষ্টার ইকো, কলাতলী - 01777 631691
- সি পয়েন্ট রিসোর্ট - 01796.069717 / 01820.001414
- এ আর গেস্ট হাউজ - 01793.671177 /01832.262123
- শাকিরা বিচ রিসোর্ট - 01723.486765 / 01819.026193
- স্বপ্ন বিলাস - 01793.100000 / 01711.877621
- নিরিবিলি, শহীদ স্মরনী, পৌরসভা গেট - 01917-244-312
হিমছড়ি কক্সবাজারের ১৮ কি.মি. দক্ষিণে অবস্থিত। পাহাড় আর অপরুপ ঝর্ণা এখানকার প্রধান আকর্ষণ। কক্সবাজার থেকে হিমছড়ি যাওয়ার পথে বামদিকে সবুজঘেরা পাহাড় আর ডানদিকে সমুদ্রের নীল জলরাশি মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সৃষ্টি করে। বর্ষার সময়ে হিমছড়ির ঝর্ণাকে অনেক বেশি জীবন্ত ও প্রাণবন্ত বলে মনে হয়। হিমছড়িতে পাহাড়ের চূড়ায় একটি রিসোর্ট আছে যেখান থেকে বিশাল সমুদ্রের দৃশ্য এক নজরে দেখা যায়।
বিস্তারিতদীর্ঘ সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন আকর্ষণীয় এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম ইনানী সমুদ্র সৈকত যা কক্সবাজার থেকে ৩৫ কি.মি. এবং হিমছড়ি থেকে ১৭ কি.মি. দক্ষিণে অবস্থিত। অভাবনীয় সৌন্দর্যে ভরপুর এই সমুদ্র সৈকতটি কক্সবাজার থেকে মাত্র আধঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত। পরিষ্কার পানির জন্য জায়গাটি পর্যটকদের কাছে সমুদ্রস্নানের জন্য উৎকৃষ্ট বলে বিবেচিত। ইনানী বিচে ভাটার সময় সমুদ্রের মাঝে অনেক প্রবাল পাথর দেখতে পাবেন।
বিস্তারিতসোনাদিয়া দ্বীপ যেন ক্যানভাসে আঁকা ছবি। অপরূপ সৌন্দর্যের আধার এ দ্বীপ কক্সবাজার শহর থেকে ৭ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমের দূরে সাগর গর্ভে অবস্থিত। দ্বিপের আয়তন লম্বায় ৭ কিমি, প্রস্থ ২.৫ কিমি। এই দ্বিপের তিন দিকে সমুদ্র সৈকত, সাগর লতা-পাতা ঢাকা বালুতীর, কেয়া- নিশিন্দার ঝোপ, ছোট-বড় খাল বিশিষ্ট প্যারাবন। আরো আছে বিচিত্র প্রজাতির জলচর পাখি। এই দ্বিপে আছে অজস্র লাল কাঁকড়ার ছড়াছড়ি। আছে গাংচিলের ভেসে বেড়ানো।
বিস্তারিতকক্সবাজার জেলা শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে সাগর বক্ষের একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ সেন্টমার্টিন। সেন্টমার্টিন দ্বীপ ৭.৩ কি.মি দীর্ঘ কিছুটা উওর-দক্ষিণ বিস্তৃত। দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কি.মি. এবং লোক সংখ্যে প্রায় ৮ হাজার। কক্সবাজার থেকে লোকাল বাস বা জীপে করে টেকনাফ গিয়ে সেখান থেকে সীট্রাক বা ট্রলারে সেন্টমার্টিন যাওয়া যায়। টেকনাফ যেতে সময় লাগবে এক থেকে সোয়া এক ঘন্টা এবং সেখান থেকে সেন্টমার্টিন যেতে সময় লাগবে প্রায় দু ঘন্টা। সেন্টমার্টিন থেকে ট্রলারে ২০ মিনিটে ছেড়া দ্বীপ যাওয়া যায়। ছেড়া দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত নয়ানাভিরাম দ্বীপ।
বিস্তারিতঈদের ছুটিতে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনায় ছেড়াদিয়া বা ছেড়াদ্বীপকে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রাখার মতো। ছেড়াদ্বীপ মানে হচ্ছে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। আসলে নারিকেল জিনজিরা বা সেন্ট মার্টিন দ্বীপের আশপাশে এ রকম দ্বীপের সংখ্যা একটি নয়, বরং বেশ কয়েকটি। যদিও পর্যটকদের কাছে মূলত নিকটতমটিই ছেড়াদ্বীপ নামে পরিচিত। আর স্থানীয় বাসিন্দারা যেহেতু দ্বীপকে দিয়া বলে ডাকে, তাই এর স্থানীয় নাম সিরাদিয়া বা ছেড়াদিয়া। সেন্ট মার্টিনের মতোই ছেড়াদ্বীপ চুনাপাথর, ঝিনুক, শামুকের খোলস এবং প্রবাল দিয়ে তৈরি। সমুদ্রপথে ছেড়াদ্বীপে যাওয়ার মোক্ষম সময় হচ্ছে ভাটার সময়।
বিস্তারিতকক্সবাজার শহর থেকে ৩৫ কি.মি. উত্তরে এই সাফারী পার্কের অবস্থান। এটি বাংলাদেশের প্রথম সাফারী পার্ক। বিলুপ্তপ্রায় ও বিরল প্রজাতি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও বংশবৃদ্ধিসহ মানুষের চিত্ত বিনোদন, গবেষণা ইত্যাদি পরিচালনার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সংলগ্ন চকরিয়া উপজেলা এলাকায় স্থাপিত "ডুলাহাজারা সাফারী পার্ক" পর্যটকদের আকর্ষনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। এখানে রয়েছে কয়েক হাজার পশু-পাখী।
বিস্তারিতবাংলাদেশের শীর্ষ পর্বত শৃঙ্গ হিসেবে মাথা উঁচু করে আছে বান্দরবানের সাকাহাফং পর্বত যা মদক তং বা মোদক তুয়াং নামেও পরিচিত। কিছুদিন আগেও কেওক্রাডং বা তাজিংডং কে বাংলাদেশের শীর্ষ পর্বত শৃঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও ইউএস টপোগ্রাফি ম্যাপ, রাশিয়ান টপোগ্রাফি ম্যাপ, গুগল ম্যাপ, গুগল আর্থসহ বিভিন্ন অভিযাত্রীদের নেওয়া জিপিএস রিডিংয়ের মাধ্যমে জানা গেছে এখন সাকহাফং-ই বাংলাদেশের অন্যতম সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ। মাপজোকের হিসাব অনুসারে কোনোটা ৩৪৫৪, ৩৪৪৫ বা ৩৪১০ ফুট।
বিস্তারিতকক্সবাজার জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী উপজেলা হচ্ছে রামু। পুরাকীর্তিসমৃদ্ধ রামুতে রয়েছে অনেক প্রাচীন বৌদ্ধ নিদর্শন। রামুতে সর্বমোট ৩৫টি বৌদ্ধ মন্দির ও জাদি রয়েছে। রামুর উত্তর মিঠাছড়ির পাহাড়চূড়ায় রয়েছে গৌতম বুদ্ধের ১০০ ফুট লম্বা সিংহশয্যা মূর্তি। আর মাত্র দুই কিলোমিটার অদূরেই কেন্দ্রীয় সীমাবিহার নতুন করে নির্মিত হয়েছে। কিছুটা দক্ষিণে এগিয়ে গেলেই রয়েছে নজরকাড়া লালচিং ও সাদাচিং বৌদ্ধ বিহার। এছাড়াও আশপাশে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে অসংখ্য ছোট-বড় আরো অনেক বৌদ্ধ বিহার।
বিস্তারিতকক্সবাজার শহর থেকে নৈকট্যের কারণে লাবণী পয়েন্ট এবং কলাতলী বিচ পর্যটকদের কাছে প্রধান সমুদ্র সৈকত বলে বিবেচনা করা হয়। লাবনী পয়েন্ট থেকে কলাতলী বিচ হেটে যেতে ১৫ মিনিট লাগবে। লাবণী পয়েন্টে পাবেন ঝিনুক মার্কেট এছাড়াও ছোট বড় অনেক দোকান যেখানে নানারকম জিনিসের পসরা সাজিয়েছে দোকানীরা যা পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ। এছাড়া কলাতলী বিচে আছে সমুদ্রের ধার ঘেষে বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট যেখানে খেতে খেতে মনোরম সূর্যাস্ত দেখতে পাবেন।
বিস্তারিত